গীতার শ্লোক খুঁজুন
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পরিচিতি
গীতা কী এবং এর উৎস
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, যা সংক্ষেপে 'গীতা' নামে পরিচিত, সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান ধর্মগ্রন্থ। এটি প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতের (ভীষ্মপর্বের ২৫-৪২তম অধ্যায়) একটি অংশ। গীতা হলো কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর সখা তথা পাণ্ডব राजकुमार অর্জুনের মধ্যে সংঘটিত একটি কথোপকথন।
প্রেক্ষাপট ও বিষয়বস্তু
যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে, অর্জুন তাঁর প্রতিপক্ষ হিসেবে আত্মীয়-স্বজন, গুরুজন এবং বন্ধুদের দেখে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেন। সেই সংকটময় মুহূর্তে, অর্জুনের সারথি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি এবং ধর্মের গূঢ় তত্ত্ব সম্পর্কে উপদেশ দেন। এই উপদেশাবলিই গীতা নামে সংকলিত হয়েছে।
গীতায় মোট ১৮টি অধ্যায় এবং প্রায় ৭০০টি শ্লোক রয়েছে। এর মূল বিষয়বস্তু হলো—निष्काम কর্ম (ফলের আশা না করে কর্তব্য পালন), আত্মার অমরত্ব, ঈশ্বরের স্বরূপ, ভক্তিযোগ, জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ এবং মোক্ষলাভের পথ। এটি কেবল একটি ধর্মগ্রন্থই নয়, বরং জীবন পরিচালনার এক কালজয়ী দর্শন।
"সর্বোপনিষদো গাবো দোগ্ধা গোপালনন্দনঃ। পার্থো वत्सঃ सुधीर्भोक्ता दुग्धं गीतामृतं महत्॥"
(অর্থাৎ: সমস্ত উপনিষদ গাভীর স্বরূপ, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেই গাভী দোহনকারী, অর্জুন বাছুরের মতো এবং গীতামৃত হলো সেই দুগ্ধ, যা জ্ঞানী ব্যক্তিরা পান করেন।)
মতামত দিন
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন