যজুর্বেদের মন্ত্র খুঁজুন
বেদ পরিচিতি
বেদ কী এবং এর উৎস কী?
বেদ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত ‘বিদ্’ ধাতু (যার অর্থ ‘জ্ঞান’) এবং ‘ঘঞ্’ প্রত্যয় (যা ‘ক্রিয়া’ বোঝায়) থেকে হয়েছে। বেদ চারটি — ঋগ্বেد, যজুর্বেদ, সামবেদ, এবং অথর্ববেদ। সনাতন বিশ্বাস অনুসারে, এই চারটি বেদ মানব সভ্যতার শুরুতে অগ্নি, বায়ু, আদিত্য এবং অঙ্গিরা—এই চার ধ্যানমগ্ন ঋষির অন্তরে প্রকাশিত হয়েছিল।
বেদের অর্থ, ভাষা ও বিষয়বস্তু
বেদ মন্ত্রের তিন প্রকার অর্থ হতে পারে: যাজ্ঞিক/আধিভৌতিক (বিজ্ঞান বা ক্রিয়াকলাপ ভিত্তিক), আধিদৈবিক (দেবতার মহত্ত্বের প্রশংসা) এবং আধ্যাত্মিক (আত্মা ও পরমাত্মা সম্পর্কিত জ্ঞান)।
বেদ ‘বৈদিক সংস্কৃত’ ভাষায় রচিত। এই ভাষায় প্রতিটি শব্দের একাধিক অর্থ থাকতে পারে এবং প্রতিটি বস্তুর জন্য একাধিক শব্দ ব্যবহার হতে পারে। বেদ সঠিকভাবে বোঝার জন্য ছয়টি বেদাঙ্গ অধ্যয়ন করা অপরিহার্য: (১) শিক্ষা, (২) কল্প, (৩) ব্যাকরণ, (৪) নিরুক্ত, (৫) ছন্দ, এবং (৬) জ্যোতিষ।
“বেদ সকল সত্য বিদ্যার পুস্তক। বেদ পড়া ও পড়ানো, শোনা ও শোনানো সকল আর্যের (ধার্মিক ব্যক্তির) পরম কর্তব্য।”
– (আর্য সমাজের দ্বিতীয় নিয়ম)
যজুর্বেদ পরিচিতি
তাৎপর্য ও বিষয়বস্তু
‘ঋক্’ এবং ‘যজুঃ’—এই শব্দগুলির অর্থও এটাই, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বর থেকে শুরু করে পৃথিবী পর্যন্ত সমস্ত পদার্থের জ্ঞান লাভ করে ধার্মিক বিদ্বানদের সঙ্গ লাভ করে, সমস্ত শিল্পকর্মসহ সকল বিদ্যার পারদর্শিতা অর্জন করে এবং সেই বিদ্যার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সকলের উপকারের জন্য দ্রব্য ইত্যাদি পদার্থ ব্যয় করে। এই কারণেই এর নাম যজুর্বেদ।
গঠন ও পরিসংখ্যান
এই যজুর্বেদে মোট চল্লিশটি অধ্যায় রয়েছে এবং প্রতিটি অধ্যায়ে কতগুলি মন্ত্র আছে, তা পূর্বে সংস্কৃতে ছক তৈরি করে লেখা হয়েছে। চল্লিশটি অধ্যায়ের সব মিলিয়ে মোট ১৯৭৫ (এক হাজার নয়শত পঁচাত্তর) মন্ত্র আছে।
মতামত দিন
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন